বাঙালির ঐতিহ্য ও পরিচয়

0
18

বাঙালি সংস্কৃতিঃ
বাঙালির ঐতিহ্য ও পরিচয়
ঐতিহ্য শব্দটির সঙ্গে আমরা খুবই পরিচিত। কিন্তু আজকাল অনেক বিজ্ঞজনই এই ঐতিহ্যকে কুসংস্কার, বিকৃত আচরণ এবং বিশেষ কোনো ধর্মীয় গোঁড়ামি বলে আখ্যা দিচ্ছেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তারা তাদের আধুনিকতাকে প্রকাশ করতে চাইছেন। কিন্তু তারা হয়তো জানেন না—ঐতিহ্য একটা জাতির পরিচয় ; যেমন একজন মানুষের পরিচয় তার নাম। তাই ঐতিহ্য কোনো কুসংস্কার বা বিকৃত আচরণ নয়, আবার ধর্মীয় গোঁড়ামিও নয়। যেমনি নদীপথে স্রোত অগ্রসর হয়, তেমনি এই ঐতিহ্যেরও আছে আলাদা একটা গতিপথ। যে পথ ধরে সে অনন্তকাল অগ্রসর হচ্ছে। আর এ পথের নিকটে এলেই আমরা সমগ্র বিশ্ব মানবের ইতিহাস জানতে পারি। তবে পথটা আজ জরাজীর্ণ, মেরামতের বড়ই অভাব। তাই হয়তো আজ পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি, ভিন্ন জাতির ঐতিহ্যের পথে প্রবেশ করছে এবং হারিয়ে ফেলছে তার নিজের পরিচয়! পৃথিবীর যে প্রান্তে যেয়েই বলা হোক না কেন ঢাক-ঢোলের বাজনা আর শরীরে রঙ-বেরঙের পোশাক এবং পান্তাভাত আর ইলিশ মাছ; তাহলেই তারা বুঝে নিবে এটা বাঙালি জাতির বাংলা বর্ষবরণ উত্সব। কিন্তু কেউ যদি ইংরেজি বর্ষবরণের আতশবাজি ফাটানোর কথা শুনে, তার ঢাক-ঢোলের বাজনার কথা বলতে লজ্জা পায়, তবে নিঃসন্দেহে সে তার নিজের পরিচয় দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে, আর সে পরিচয় দিবেই-বা কিভাবে তার তো পরিচয়ই নেই। তখন তার চিন্তা হয়ে যাবে ধ্বংসাত্মক।
এতো বললাম আমাদের বাঙালি জাতির ঐতিহ্যের কথা। আজ যদি আমরা বহির্বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করি। তাহলে দেখবো তারা শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাদের ঐতিহ্যে কেমন অটল! কারণ তারা তাদের জাতিগত সত্তা চায়। তাই তো তারা এই ঐতিহ্যের কাছে কোনো কুসংস্কার বা ধর্মীয় প্রসঙ্গ আনেন না। কারণ পথ তো ভিন্ন। যেমন—খাবার রাখার জন্য পাত্র প্রয়োজন, খাবার মুখে তোলার জন্য হাত দরকার, খাওয়ার জন্য মুখ দরকার আবার হজম করার জন্য পাকস্থলী দরকার। তাহলে এ থেকেই বোঝা যায় যে প্রত্যেকটা বস্তুরই আলাদা আলাদা ক্রিয়া। সুতরাং পাকস্থলীর সঙ্গে খাদ্যপাত্রের তুলনা করলে চলবে কেন! কারণ একটির অবস্থান দেহের ভিতরে আর অপরটির অবস্থান শরীরের সম্পূর্ণ বাইরে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, আমাদের সমাজের এক শ্রেণির মানুষ তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে এই হীন কাজটিই করছেন। তারা বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে করছেন বিকৃত।
তাই আজ কুসংস্কার, বিকৃত আচরণ এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির কথা ভুলে গিয়ে আমাদের বাংলা মায়ের সন্তানকে জেগে উঠতে হবে। রক্ষা করতে হবে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে। কিছুতেই বিদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কাছে আমাদের জাতিসত্তাকে বিসর্জন দেওয়া যাবে না। সকলকে মনে রাখতে হবে, আমরা বাংলা মায়ের সন্তান, জাতিসত্তার মূল পরিচয় আমরা ‘বাঙালি’।

লেখক :নিউটন মজুমদার,শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here